মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

খোকসায় নৈশপ্রহরী-ব্যবসায়ীদের বেঁধে ৫ দোকানে লুট

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

খোকসায় নৈশপ্রহরী-ব্যবসায়ীদের বেঁধে ৫ দোকানে লুট

কুষ্টিয়ার খোকসায় নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীদের হাত-পা বেঁধে একটি বাজারে পাঁচটি দোকানে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত একতারপুর বাজারে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এ তাণ্ডব চালায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীরা। এ সময় স্বর্ণের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণালংকার, রুপা, নগদ টাকা ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে পুলিশ বলছে, একতারপুর বাজারে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৈশ প্রহরীদের ভাষ্য, সোমবার রাত ১টার দিকে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অস্ত্রধারীরা বাজারে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা বাজারের নৈশপ্রহরীদের ধরে একত্রিত করে। পরে গামছা ছিঁড়ে তাদের হাত বেঁধে একটি চায়ের দোকানে বসিয়ে রাখে। একই সময় পাহারায় থাকা দুই ব্যবসায়ীকেও ধরে নিয়ে সেখানে আটকে রাখা হয়।

পরে ডাকাত দলের কয়েকজন সদস্য পাহারায় থাকা ব্যক্তিদের নজরদারিতে রেখে অন্যরা একে একে দোকানের তালা ও লকার ভাঙতে শুরু করে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রানোতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সের দুটি শোরুম ও কারখানায় ঢুকে লকার ভেঙে কয়েক ভরি পুরোনো স্বর্ণের গহনা, প্রায় ২০ ভরি রুপা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা।

এ ছাড়া মানিক বিশ্বাসের মানিক জুয়েলার্স, সঞ্জয় বিশ্বাসের ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, পাখি ভ্যানের মেকার আব্দুল হান্নান শেখের দোকান এবং চায়ের দোকানি ওবায়দুলের দোকানেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ওবায়দুলের দোকান থেকে কয়েকটি মোবাইল ও নগদ ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আব্দুল হান্নানের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল নিয়ে যায়।

নৈশপ্রহরীদের দাবি, ডাকাত দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ২৫ জন। তাদের সবার মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল। কয়েকজনের হাতে রাইফেল এবং অন্যদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে বাজারে তাণ্ডব চালায়।

ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় দুই নৈশপ্রহরীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যায়। পরে সেখানেই তাদের রেখে চলে যায় বলে জানান নৈশপ্রহরীরা।

kustia-2স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রানোতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করার সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে রেখে যাই। এরপরও ডাকাতরা দোকানের সব সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে। দুটি শোরুম ও কারখানার লকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরোনো গহনা, প্রায় ২০ ভরি খাঁটি রুপা এবং ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন ফোন করে দোকানে ডাকাতির খবর দেন। বাজারে এসে দেখি দোকানের সাটার বন্ধ। পরে ভেতরে ঢুকে ডাকাতির বিষয়টি বুঝতে পারি।

পাখি ভ্যানের মেকার আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমার সামনে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। ডাকাতরা আমাকে ধরে নিয়ে নৈশ প্রহরীদের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

বাজারের পাহারা ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক ও গ্রাম্য চিকিৎসক ওহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে পাঁচজন পাহারাদার ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজনকে আটকে রেখে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি করেছে। রাতেই পুলিশ এসেছিল। তবে এখনো মামলা হয়নি।

ঘটনাটিতে চুরি উল্লেখ করে খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, ‘একতারপুর বাজারে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এটি শতভাগ চুরি।’

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি আর কথা বলবেন না জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

প্রতিনিধি/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর