গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের ৬২৭ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানার সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাঁটাইয়ের নোটিশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা কারখানার মূল ফটকে ভিড় করেন। এ সময় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা যায়।

শ্রমিকেরা জানান, তাদের অনেকে ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে কারখানায় কাজ করছেন। তাদের কয়েক মাসের বেতন ও অন্যান্য পাওনা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কারখানার অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছাঁটাই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নিয়োগ করা হবে।
নোটিশে বলা হয়েছে, যেসব শ্রমিক ও কর্মচারীর চাকরি বহাল রয়েছে, তারা লে-অফ নোটিশের আওতাভুক্ত থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফের সুবিধা পাবেন।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, কেয়া গ্রুপের ৬২৭ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার মূল ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ দেখিয়ে গত ৬ জুন থেকে কারখানাটি লে-অফে রয়েছে। পরে লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




