একজন শিক্ষক শুধু নির্ধারিত সময়ের কর্মচারী নন, তাকে সারাক্ষণ বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ৩৪ নম্বর কামলা জিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অবসরপ্রাপ্ত এই প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘একজন শিক্ষক সাত ঘণ্টার কর্মচারী নন। একজন শিক্ষককে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যালয় নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে। বিদ্যালয়কে নিজের পরিবারের মতো মনে করে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না, তাদের নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করলে একসময় সেই স্বপ্নের স্বীকৃতিও মিলবে।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খান হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শেফাইনুর অরেফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা মনিরুল ইসলামের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রশংসা করে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা তার সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর অবসরজীবন কামনা করেন।
সংবর্ধনার জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, কর্মজীবনে তিনি বিদ্যালয়কে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। অবসরের পরও বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী শিক্ষার মানোন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব। একজন শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে তাঁর হাত ধরেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, মো. মনিরুল ইসলাম উপজেলা পর্যায়ে ১৩ বার, জেলা পর্যায়ে পাঁচবার, বিভাগীয় পর্যায়ে দুইবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে তিনি শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়া শ্রেষ্ঠ গুণী প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতেও বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেন।
প্রতিনিধি/এমআই




