সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ফেনীতে ডেঙ্গুর সঙ্গে বাড়ছে হাম, আক্রান্ত ছাড়াল দেড় হাজার

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ফেনীতে ডেঙ্গুর সঙ্গে বাড়ছে হাম, আক্রান্ত ছাড়াল দেড় হাজার

ফেনীতে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হামের প্রকোপ। ইতোমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের মোট আক্রান্তের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে জেলাজুড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষ হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের বড় অংশই শিশু।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ফেনীতে ৩০৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে ১ হাজার ৫৯১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৯ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের বড় অংশই চিকিৎসা নিচ্ছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে সন্দেহজনক ১ হাজার ৩৩০ জন রোগীর মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৫৯ জন। উপজেলা পর্যায়ে সোনাগাজীতে ১৩২ জন, দাগনভূঞায় ৫৬, ছাগলনাইয়ায় ১৮ এবং ফুলগাজী ও পরশুরামে ২ জন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।

পরীক্ষায় হাম শনাক্ত

ফেনী পৌর এলাকায় সন্দেহজনক ১ হাজার ৩৩০ জন রোগীর মধ্যে ২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া সোনাগাজীতে ৮, দাগনভূঞায় ৪, ফেনী সদরে ২, ফুলগাজীতে ২ এবং ছাগলনাইয়ায় ১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে।

ডেঙ্গুর চিত্রে গত বছরের রেকর্ড পার

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জেলায় মোট ২০১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩০৫-এ পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪১টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

ফেনী সদর উপজেলায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৯৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া দাগনভূঞায় ৩৬, সোনাগাজীতে ৩০, ছাগলনাইয়ায় ২০, ফুলগাজীতে ১১ এবং পরশুরামে ১০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

শহরে মশার উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধন কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিয়মিত ওষুধ না ছিটানোয় ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ফেনী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের ওপরও বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর