প্রকৃতিতে এখন শরতের ছোঁয়া। শরতের অন্যতম স্মারক কাশফুল। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি প্রকৃতিতেও ফুটেছে কাশফুল। চেঙ্গী নদীর তীর ও দীঘিনালা উপজেলা সড়কের ৮ মাইল এলাকায় রাস্তার পাশে ফুটে থাকা শুভ্র কাশফুল পথচারী ও ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি কাড়ছে।
দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের নিচে যেন সাদা মেঘ নেমে এসেছে মাটিতে। কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ হয়ে নানা বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন এসব কাশবনে।
শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সাজে। ভাদ্র-আশ্বিনের আকাশে মেঘের ভেলা আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল প্রকৃতিতে এনে দেয় ভিন্ন এক আবহ। ভ্যাপসা গরমের পর শরতের মিষ্টি বাতাসে কাশফুলের দোলা প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাশফুল দেখতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের ভিড় জমেছে। কেউ কাশফুল হাতে নিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের কাছে কাশবন হয়ে উঠেছে আকর্ষণের অন্যতম স্থান।
খাগড়াছড়ি সদর থেকে কাশফুল দেখতে আসা পপি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চার বান্ধবী কাশফুল দেখতে এসেছি। খুবই সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত পাহাড়ে এত কাশফুল চোখে পড়ে না। কাশফুলের সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ছে। সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি তুলছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ফারহানা আক্তার বলেন, ‘শরৎ এলেই খাগড়াছড়ির পাহাড়ি প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে। আর কাশফুলের শুভ্রতা সেই সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই পরিবার নিয়ে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি।’
হিল অর্কিড সোসাইটি খাগড়াছড়ির প্রতিষ্ঠাতা সাথোয়াই মারমা বলেন, কাশফুলের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিবছরই মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও নিতে হবে।
তিনি বলেন, কাশবনসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানগুলোতে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে এবং গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি না করে সবাইকে সচেতনভাবে সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




