রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

চরম ঝুঁকিতে ৭৮ বছরের মাদরাসা, আতঙ্কে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী 

জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি 
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

ঝালকাঠির রাজাপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কেওতা ঘিগড়া ফাজিল মাদরাসার পাঠদান
৭৮ বছরের পুরনো ঘিগড়া ফাজিল মাদরাসা

১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কেওতা ঘিগড়া ফাজিল মাদরাসা। ৭৮ বছর ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এখানে পড়াশোনা করছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষক রয়েছেন ৩১ জন। 

তবে দীর্ঘদিনের পুরনো ভবনটির বিভিন্ন অংশ এখন জরাজীর্ণ। দেয়াল ও ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোথাও কোথাও পলেস্তারা ক্ষয়ে গেছে। চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

2 

কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষে বসে থাকার সময় ছাদ ও দেয়ালের দিকে তাকালে তাদের ভয় হয়। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে আতঙ্ক বাড়ে। কখন ভবনের কোনো অংশ খসে পড়ে, সেই শঙ্কা থাকে তাদের মধ্যে। 

মাদরাসার শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে পড়ার সময় ভবনের ফাটলগুলো চোখে পড়ে। তখন ভয় লাগে। কখন কী ঘটে, সেই চিন্তা থাকে। আমরা দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ চাই। 

3

শিক্ষার্থী শাওন আলিফ বলে, বৃষ্টি হলে ভয় আরও বেড়ে যায়।বৃষ্টির পানিতে আমাদের বই খাতা ভিজে যায়। নিরাপদ পরিবেশে ক্লাস করতে চাই। ভবনটি দ্রুত ঠিক করা দরকার। 

আরেক শিক্ষার্থী নূর নাহার বলে, অনেক দিনের পুরনো ভবন। বিভিন্ন জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিদিন এই ভবনে ক্লাস করতে আমাদের ভয় হয়। 

মাদরাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোবাশ্বের হোসাইন বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন। ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। 

4

মাদরাসার শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিদিনই আমাদের চিন্তা হয়। ভবনটির দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। 

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হুদা চমন বলেন, এই মাদরাসায় এলাকার বহু মানুষ পড়াশোনা করেছেন। এত পুরনো একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে বিবেচনা করা উচিত। 

5

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর বরাবর আবেদন করলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। 

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পুরনো ভবনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর