রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সুন্দরগঞ্জে চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন বসতবাড়ি

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

সুন্দরগঞ্জে চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন বসতবাড়ি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে বেশ কিছু বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। 

সম্প্রতি উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় হঠাৎ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। 

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে তিস্তা নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর পাড়ের মাটি ধসে পড়তে থাকে। একপর্যায়ে একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। 

ভাঙন এতটাই আকস্মিক ছিল যে, অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি। চোখের সামনে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হতে দেখে অসহায় হয়ে পড়েন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা তিস্তার ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। কেউ কয়েকবার বসতভিটা পরিবর্তন করেছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে নতুন করে ঘর তুলেছেন। কিন্তু এবার আকস্মিক ভাঙনে অনেকের সেই শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেছে। 

শহিদুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, হঠাৎ করে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। ঘরের অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আহাদ মিয়া নামের আরেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন কোথায় থাকব, কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব—কিছুই বুঝতে পারছি না। 

ভাঙনের কারণে শুধু বসতবাড়িই নয়, নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি, গাছপালা ও অন্যান্য স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও পরিবার তাদের বসতভিটা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 

1

এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়। 

এসময় স্থানীয়রা ইউএনওর কাছে ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, থাকার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। 

অন্যদিকে, নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাত নামলেই ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে অনেক পরিবারের। তাদের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন- তিস্তার ভাঙন থেকে শেষ আশ্রয়টুকুও কি রক্ষা করা যাবে? 

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ফেলার কাজ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর