গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতি বছরের মতো এবারেও রংপুর নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন নগরের ঘাঘট নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুরু হয় দুইদিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা। আর এই গ্রামীণ ঐতিহ্যকে উপভোগ করতে নদীর দুই তীরে শত শত মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
দুইদিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসবে রংপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামসহ আশপাশের জেলা থেকে আগত মাঝি-মাল্লাদের আটটি দল অংশ নেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর নগরীর হোসেন নগর যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই এই নৌকা বাইচ দেখার জন্য নদীর আশেপাশে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নেন দর্শনার্থীরা। এরপর দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সের মানুষ ঘাঘট নদীর তীরে সমবেত হন। নদীর পাড়ে ঘাসের উপর বসে, দাঁদিয়ে এবং গাছের ডালে বসে দর্শনার্থীরা খেলা উপভোগ করেন।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগীদের উৎসাহব্যঞ্জক গান আর বাইচ দলের তরুণদের সুসংহত বৈঠার ছন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নদীর তীর। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার শেষ মুহূর্তে দলগুলোর গতি বৃদ্ধি আর উত্তেজনায় দর্শকদের মাঝে অন্যরকম উন্মাদনা কাজ করে। নদীমাতৃক বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী এই সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় এবং বিনোদনের সুস্থ খোরাক জোগাতে প্রতিবছরই স্থানীয়ভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
নীলফামারী থেকে আসা মাঝি কবিরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। এবারই প্রথমবার রংপুরের এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য প্রতি বছর এমন আয়োজন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান তিনি।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে জমে ওঠে মেলা। মেলায় হাজারও মানুষের সমাগমে উৎসবমুখরি পরিবেশ তৈরি হয়। তবে রং-বেরঙে সাজানো দৃষ্টিনন্দন নৌকা আর মাঝি-মাল্লাদের সুর, হইহুল্লোর নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। আগামীতে আরও বড় পরিসরে নৌকা বাইচ উৎসবের দাবি জানান প্রতিযোগী, দর্শনার্থীসহ স্থানীয়রা।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা হুমায়ুন কবির জানান, প্রতিবছরেই এই নৌকা বাইচ আয়োজন দেখতে আসা হয়। ভালো লাগে। প্রতি বছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা বিনোদনপ্রেমীদের মনের খোরাক জোগায়। এমন আয়োজন যেন আরও বড় পরিসরে হয় এই দাবি তিনি জানান।
আয়োজকরা বলছেন, সবার আগে দরকার নদীকে বাঁচানো। এ জন্য আগে নদীকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা নদী না বাঁচলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ হারিয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে নদী কেন্দ্রীক ঐতিহ্য, মাছ ধরা পেশা, জীবন ও প্রকৃতি। দ্রুত তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, আখিরা, করতোয়া ও শ্যামাসুন্দরীসহ সব নদ-নদী ও খাল খনন, শাসন ও সঠিক পরিচর্যার দাবি জানান আয়োজকরা।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ জানান, ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর ঘাঘটে নৌকা বাইচ হয়ে আসছে। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং এ প্রজন্মের কাছে নৌকা বাইচ পরিচয় করিয়ে দিতে হোসেন নগর যুব সমাজ এ নৌকা বাইচের আয়োজন করে। দুই দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা আগামীকাল হবে। শেষ দিনে বিজয়ী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
প্রতিনিধি/ এজে




