জীবিকার তাগিদে বয়সের ভার উপেক্ষা করে বাড়ি ছেড়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আর জ্যান্ত ফেরা হলো না পরিবারের কাছে। ফেনীর পরশুরামে চায়ের দোকানে ঘুমন্ত অবস্থায় শুক্কুর আলী মোড়ল (৬০) নামের এক বয়োবৃদ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পরশুরাম স্টেশন রোডের আসলাম মিয়ার চায়ের দোকানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শুক্কুর আলী নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার গুজিরকোনা গ্রামের মৃত শহর আলী মোড়লের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়াতে প্রায় ১৫ দিন আগে নেত্রকোনা থেকে পরশুরামে কাজের সন্ধানে আসেন শুক্কুর আলী। শুক্রবার রাতে স্টেশন রোডের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করার পর তিনি সেখানেই একটি চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে জানা যায়, ঘুমের মধ্যেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেশী সাদেক মিয়া বলেন, কাজের খোঁজে এসে এভাবে মানুষটা মারা যাবে কেউ ভাবেনি। ঘুমের মধ্যেই উনার মৃত্যু হয়েছে।
ছেলের নিষেধ সত্ত্বে কাজ করতে বের হওয়া এই বৃদ্ধের মৃত্যুতে স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন মোড়ল মুঠোফোনে আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের সংসারের অবস্থা মোটামুটি ভালো। বাবাকে বহুবার কাজে আসতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি শোনেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের সহায়তায় মসজিদে রাখা হয়। প্রবীণ এই শ্রমিকের নিথর দেহ গ্রামে পাঠানোর জন্য স্থানীয়রা অর্থ সংগ্রহ করে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করছেন।
প্রতিনিধি/এসএস




