বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পাওনা টাকা চাওয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

শেয়ার করুন:

পাওনা টাকা চাওয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া এলাকার ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (জুটমিল) কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন নিকরাইল ইউনিয়নের পাথাইলকান্দি গ্রামের আসলাম তালুকদারের ছেলে ওয়ারেস (২৫), সারপলশিয়া গ্রামের বাছেদের ছেলে মো. শামীম (২৭) এবং আব্দুল হাই তালুকদারের ছেলে লিখন তালুকদার (২৯)।

গত ২৬ আগস্ট জুটমিলের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী আক্তার হোসেনকে বাদী করে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন জুটমিলের অংশীদার আব্দুর রহমান ওরফে স্বপন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাদী প্রায় দুই বছর আগে জুটমিলের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুটমিলের অংশীদার ও মেসার্স প্রিয়ন্তী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হাই সরকারের কাছে লিখন তালুকদার ৫০ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে আসছেন। ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আব্দুল হাই একাধিকবার সময় নেন এবং এর মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ আগস্ট লিখন কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে পাওনা টাকা চাইতে জুটমিলে যান। সেখানে জুটমিলের ম্যানেজার সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহানের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরে ২৪ আগস্ট জুটমিল কর্তৃপক্ষ পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে লিখনদের কার্যালয়ে ডেকে নেয়। সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে পাওনা টাকা না পেয়ে তারা ম্যানেজার শাহজাহানকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় শাহজাহান জুটমিলের ভেতরে পরিদর্শনে ছিলেন। সেখানে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে জুটমিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন

পাকা বাড়ি-জমির মালিকের হাতেও ভিজিএফের কার্ড

এ ঘটনায় জুটমিলের ম্যানেজার সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে স্ট্রোক করে মারা গেছেন—এমন অভিযোগ এনে ভূঞাপুর থানায় লিখিত মামলা করেন জুটমিলের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী আক্তার হোসেন।

মামলার বাদী আক্তার হোসেন বলেন, ‘তারা চাঁদার জন্য এসেছিলেন কি না, তা আমি জানি না। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও আমি চিনি না। আমাকে দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করানো হয়েছে।’

মামলার অন্যতম অভিযুক্ত লিখন তালুকদার বলেন, পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাকে জুটমিলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তারা কোনো চাঁদাবাজি করেননি। রাস্তা ব্যবহার ও পাওনা টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তাদের ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে জুটমিল কর্তৃপক্ষ লিখনকে কার্যালয়ে ডেকে নেয়। পরে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সেখানে যান। বালুঘাটের রাস্তা ব্যবহার ও পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। টাকা ফেরত না দেওয়ায় একপর্যায়ে তর্কবিতর্ক হয়। তাদের দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জুটমিল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মামলা করেছে।

তবে জুটমিলের অংশীদার ও মেসার্স প্রিয়ন্তী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হাই সরকার বলেন, ‘তারা ওইদিন টাকার জন্য গিয়েছিলেন—এমন কিছু না। কোনো কিছুই না। একটা নাটক সাজানো হয়েছে। এখানে অন্য কিছু ঘটছে। লিখন ও তার বন্ধুদের পরিবারের সঙ্গে আমার কথাবার্তা হচ্ছে। আমি ঢাকা ফিরে তাদের সঙ্গে বসব।’

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর