হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে ইনডোরে খেলার সময়সূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষের সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বানিয়াগাঁও গ্রামের রিয়াদ মিয়া একটি ইনডোর খেলার মাঠ উদ্বোধন করেন। সেখানে খেলার সময়সূচি নিয়ে পশ্চিম জয়পুর গ্রামের উজ্জ্বলের দলের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উজ্জ্বলের দলকে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খেলার সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পর দলটি মাঠে পৌঁছালে অন্য একটি দল খেলছিল। পরে রিয়াদ মিয়া উজ্জ্বলের দলকে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু উজ্জ্বলের দল খেলায় অংশ না নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
এ ঘটনার জেরে বুধবার দুপুরে মিরপুর এলাকায় রিয়াদ মিয়ার ভাই মুরাদ মিয়াকে একটি গাড়ি দিয়ে মোটরসাইকেলসহ চাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে রিয়াদ মিয়া ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে উজ্জ্বলকে মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এর জেরে বুধবার সন্ধ্যার পর বানিয়াগাঁও ও পশ্চিম জয়পুর গ্রামের লোকজন মিরপুর বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এতে বাজারের বিভিন্ন দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে সক্ষম হয়।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির সঠিক সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/এসএস




