বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সন্দ্বীপে ডুবোচরে আটকে গেল ফেরি, আতঙ্কে ৩০০ যাত্রী

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ এএম

শেয়ার করুন:

সন্দ্বীপে ডুবোচরে আটকে গেল ফেরি, আতঙ্কে ৩০০ যাত্রী
আটকে পড়া ফেরিতে আতঙ্কে রাত পার করছেন যাত্রীরা

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে তিন শতাধিক যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ডুবোচরে আটকে গেছে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পরপরই নাব্যতা সংকটের কারণে পলিমাটিতে আটকে পড়ে ফেরিটি। 

বৈরী আবহাওয়ায় চার দিন বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল শুরু হতে না হতেই এ ঘটনা ঘটল। এতে মাঝসমুদ্রে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি চরম উৎকণ্ঠায় রাত কাটাচ্ছেন আটকে পড়া যাত্রীরা।

জানা গেছে, ফেরিটিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক এবং বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। এছাড়া অন্তত তিন শতাধিক আরোহী রয়েছেন বলে একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। 

এদিকে ক্যানটিনে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় এবং সংকটের সুযোগ নিয়ে সাধারণ শুকনো খাবারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ১০ টাকা প্যাকেট চানাচুর ২৫ টাকায় বিক্রি করছে বলে এক যাত্রী জানিয়েছেন।

অন্যদিকে আতঙ্কগ্রস্ত যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আমরা। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা সবার মধ্যে। কখন চট্টগ্রামে পৌঁছাব, জানি না। এমন এক জায়গায় আটকে পড়েছি, নেমে বাড়িতেও চলে যেতে পারব না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে মূল ভূখণ্ডের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত খননকাজ না করায় নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। 

ফলে ভরা জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরি প্রবেশ বা বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতের জোয়ার এলে ফেরিটি ভেসে উঠবে এবং তখন পুনরায় বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা সম্ভব হবে।

তবে জোয়ার-ভাটার হিসাব না মেনে ফেরি চালানোর ঘটনায় মাস্টারের গাফিলতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল। 

তিনি বলেন, ‘উপকূলে ফেরি চালানোর ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটা অনুযায়ী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ফেরির মাস্টার দায়ী।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান জানিয়েছেন, রাতের জোয়ারে ফেরিটি নিজে থেকে ভেসে না উঠলে বিকল্প উদ্ধারকারী জাহাজের (টাগবোট) সাহায্যে টেনে মুক্ত করা হবে।

এর আগে আবহাওয়া সতর্কতার কারণে টানা চার দিন এই রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ফেরি কপোতাক্ষ ঘাট ছাড়ার কিছু দূর যেতেই এই বিপত্তিতে পড়ে। 

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর