চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানা এলাকায় সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয়ে এক নারীর বাসায় ঢুকে চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তাৎক্ষণিক দুই চাঁদাবাজকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা।
বুধবার গ্রেফতার দুই আসামি শাখাওয়াত হোসেন ও মো. মঈনুদ্দীনকে আদালতে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে হালিশহর থানার শান্তিবাগ আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আনোয়ারা বেগম একটি মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার দুজন ছাড়াও আসামি করা হয় পলাতক মো. জাহিদ, মো. মোস্তাফিজ, বাবুলকে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ভুক্তভোগী নারী তার দুই ছেলের বৌকে নিয়ে ঘরটিতে ছিলেন। এসময় বাসার পুরুষ সদস্যরা কর্মস্থলে ছিলেন। এসময় বাসায় প্রবেশ করে পাঁচ আসামি। তাদের কাছে ক্যামরা ও ওয়াকিটকি ছিল। তারা নিজেদের পুলিশ ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন।
বাসাটিতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে এমন অভিযোগে তারা তদন্ত করতে এসেছে বলে জানান ভুক্তভোগী নারীদের।
এসময় এক আসামি ক্যামরা দিয়ে তিন নারীর ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। অপর আসামিরা আলমারিসহ ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে আসামিরা বিষয়টিকে মীমাংসার জন্য ভুক্তভোগী নারীদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে রুমে ফেলে দেয় এবং তার শ্লীলতাহানি ঘটায়।
পরে আনোয়ারা বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিন প্রতারক পালিয়ে গেলেও স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে দুই প্রতারক।
হালিশহর থানার ওসি জয়নাল আবেদিন মণ্ডল বলেন, চাঁদাবাজির দায়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত ওয়াকিটকি ও ক্যামরা জব্দ করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ




