বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

৩ হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতার পক্ষে বিএনপি নেতার সাফাই

জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে বিএনপি নেতার সাফাই, দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর তার ভাই নজরুল ইসলাম সওদাগরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন। নজরুল বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র। তার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি ৩টি হত্যা মামলার আসামি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বকশীগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মানিক সওদাগর বলেন, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলের ভেতরের বিরোধীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যারা এখনো ভালো হননি, তারা যেন দ্রুত ভালো হয়ে যান।

মানিক সওদাগরের এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিরুদ্ধে গত ৪ আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে। ওই দিনের হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে তিনি তিনটি হত্যা মামলার আসামি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভাইকে নির্দোষ দাবি করেন মানিক সওদাগর। তার দাবি, বিগত সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শে নজরুল আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মানিক সওদাগর আরও দাবি করেন, বকশীগঞ্জে বিএনপিকে নজরুলই টিকিয়ে রেখেছেন। কোনো বিএনপি নেতা-কর্মীর ক্ষতি তিনি করেননি বলেও চ্যালেঞ্জ দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিক সওদাগরের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম সওদাগর ২০১৫ সালের ১২ জুন উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে তিনি বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন। ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম সওদাগর উপস্থিত হন। বিষয়টি নজরে এলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নজরুলের গ্রেফতারের দাবিতে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে তারা থানায় স্মারকলিপি দেন। ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা সাঙ্গাম মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ। একাধিক মামলায় সাত মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

একজন যুবলীগ নেতা ও হত্যা মামলার আসামির পক্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতির এমন বক্তব্যে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে মন্তব্য করায় স্থানীয় বিএনপিতেও সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব বলেন, দায়িত্বশীল একটি জায়গা থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া তার উচিত হয়নি। তারা এর তীব্র নিন্দা জানান। বিষয়টি জামালপুর জেলা বিএনপি কেন্দ্রীয় বিএনপিকে জানাবে এবং পরে কেন্দ্রীয় বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে জানতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

প্রতিনিধি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর