টাঙ্গালের ভূঞাপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা ও রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় সাংবাদিকদের ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভন্ড’ ও ‘ছোটলোক’ বলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১ আগস্ট) রাতে ভূঞাপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদে সভা করেন সাংবাদিকেরা। সভা থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার অপসারণ দাবি করা হয়।
সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পোস্ট দেন। এতে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন তিনি।

ওই পোস্টে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়। আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর না দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা ও বৈঠকে ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ‘তেল মর্দন’ করে সময় কাটানোর অভিযোগও করেন তিনি।
পোস্টটির জবাবে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। অভিযোগ রয়েছে, ওই পোস্টে তিনি সাংবাদিক আসাদুল ইসলামকে ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভন্ড’ ও ‘ছোটলোক’সহ বিভিন্ন অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের দুর্ভোগ, ওষুধ, জনবল, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো তথ্য বা বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তার জবাব দেওয়া। সাংবাদিককে গালিগালাজ বা সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

সচেতন মহলের ভাষ্য, হাসপাতাল জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সেখানে রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইভাবে সাংবাদিকের প্রকাশিত তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে তা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষায় হওয়া উচিত নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/এসএস




