যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা পর্দার আড়ালে এক হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, খুলনা বিভাগ, এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, আমরা যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কোনো সুপ্ত কিংবা গুপ্ত সংগঠন যেন একতাবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত কর্মসূচিকে ব্যর্থ করে দিতে না পারে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বক্তব্যের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমেদ সিদ্দিকীসহ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবেও ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই বাংলাদেশকে সফল করতে এবং জুলাই আন্দোলনসহ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সহকর্মীদের আত্মত্যাগের মূল্য দিতে বর্তমান সরকারকে সফল করতে হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আসুন, হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করি। নিজেদের বাসগৃহের চারদিক দুর্গের মতো শক্ত করে গড়ে তুলি, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রকারী একত্রিত হয়ে সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে না পারে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করেছে, যার কারণে নতুন রাজনীতিতে আসা অনেকে সেটিকেই রাজনীতির মূল সংস্কৃতি মনে করছেন। কিন্তু তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, বড়দের অসম্মান এবং ফ্যাসিস্টদের ভাষায় কথা বলা কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না।
তিনি বলেন, নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে প্রতিনিয়ত অন্যকে তুচ্ছ করা কিংবা অসম্মান করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতির অংশ নয়। বিএনপিও এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ধারণ করে না।
দলের প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ মহিরুহে পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি রচনায় জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ এবং বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগ দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
নতুন বাংলাদেশ গঠনে তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর প্রতি জনগণের যে বিশ্বাস, আস্থা ও প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণের দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের। বর্তমান সরকারকে সফল করতে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব রয়েছে। যার যার অবস্থান থেকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী যশোরবাসীকে যে উপহার দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময়েও তা দিতে পারেনি। বিএনপি যশোরের ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করেছে এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
সমাবেশ ও র্যালিতে জেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এআর




