পিরোজপুরের নেছারাবাদে পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মামলার আসামিকে গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু রায়হান সোহেলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, কথিত সংবাদকর্মী আবু রায়হান সোহেল পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে এমন কথা বলে ওই টাকা নিয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে টাকা নেওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ‘ভয়েজ অফ নেছারাবাদ’ পেইজে আপলোড করা হয়। আপলোডের সঙ্গে সঙ্গে ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী মামলার বাদী মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার অভিযোগ, গত ২৩ মে তার স্ত্রী ঘরে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট তিনি নেছারাবাদ থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। জাহাঙ্গীরের দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার কথা বলে পূর্বপরিচিত কথিত সাংবাদিক আবু রায়হান সোহেল তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। নিজেকে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোহেল তাকে আশ্বস্ত করেন যে, পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করিয়ে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ আশ্বাসে বিশ্বাস করে জাহাঙ্গীর উপজেলার ইন্দেরহাট এলাকার একটি বিকাশের দোকান থেকে আবু রায়হান সোহেলকে ২৪ হাজার টাকা দেন বলে জানান। তবে টাকা দেওয়ার প্রায় এক মাস পার হলেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে সোহেল নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর।
ভুক্তভোগীর ভাগ্নে মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, আসামিদের ধরতে থানায় টাকা দেওয়ার কথা বলে আবু রায়হান সোহেল আমাদের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দিচ্ছেন। আমাদের ধারণা, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে তিনি হয়তো আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আবু রায়হান সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা এনে আমি পুলিশকে দিয়েছি। আমি যে কথা দিয়েছি, সেই অনুযায়ী কাজ করছি। এখন পুলিশ আসামি না ধরলে আমি কী করব?
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, আবু রায়হান নামে কথিত এক সংবাদকর্মী একটি মামলার আসামিকে গ্রেফতার করিয়ে দেবেন বলে বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, এমন একটি বিষয় শুনেছি। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে চাঁদাবাজ ও হলুদ সাংবাদিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকতার নামে কেউ চাঁদাবাজি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন।
প্রতিনিধি/এফএ





