সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

পানিবন্দী সাভারের কাঞ্চনপুর, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা

আহমাদ সোহান সিরাজী, সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

পানিবন্দী সাভারের কাঞ্চনপুর, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা
কাঞ্চনপুর মহল্লা। চারদিকে বসতবাড়ি, সরু রাস্তা আর জমে থাকা নোংরা পানিতে দুর্ভোগ। ছবি: ঢাকা মেইল

সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর মহল্লা। চারদিকে বসতবাড়ি, সরু রাস্তা আর জমে থাকা নোংরা পানি। প্রায় এক মাস ধরে জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন এ এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবারের মানুষ। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি। বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের ময়লা পানি মিশে একাকার হয়ে থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে কাঞ্চনপুরে জলাবদ্ধতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। আবার কিছু ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে থাকায় দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে। ফলে বাড়ির উঠান, রাস্তাঘাট এমনকি অনেকের ঘরের আশপাশেও পানি ঢুকে পড়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ। প্রতিদিন জমে থাকা নোংরা পানির ওপর দিয়েই স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। একইভাবে চাকরি ও ব্যবসার প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। অনেককে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে চলতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কাঞ্চনপুরের স্কুলছাত্রী আয়েশা আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই নোংরা পানি পার হতে হয়। অনেক সময় পোশাক ভিজে যায়, জুতা নষ্ট হয়। বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমে থাকায় স্কুলে যেতেও ভয় লাগে। আমরা চাই, দ্রুত এই পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হোক।

image

স্থানীয় বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী আমির হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার রাস্তা ও বাড়িতে পানি ঢুকে যায়। এই নোংরা পানির ওপর দিয়েই শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়। চাকরি বা ব্যবসার জন্য বের হওয়া মানুষকেও বাধ্য হয়ে এই পানি পার হতে হয়। এতে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে এই পানির কারণে মশার উপদ্রবও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, শুধু পানি সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নয়, স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের জন্য পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা গৃহবধূ হালিমা বেগম বলেন, বছরের পর বছর বাড়ির সামনে পানি জমে থাকে। অনেক সময় নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। তার ওপর এ বছর বেশি বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পৌরসভার মধ্যে থেকেও আমাদের এমন পানিবন্দী জীবন কাটাতে হচ্ছে। নেতাদের বলেও কোনো লাভ হয় না।

তালুকদার জাহিদুল ইসলাম জুয়েল নামে অপর এক বাসিন্দা বলেন, কাঞ্চনপুর সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মহল্লা। কিন্তু পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই এখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুরে জলাবদ্ধতার বিষয়টি তিনি জানেন। এটি মূলত দীর্ঘদিনের সমস্যা। বৃষ্টির মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অর্থবছরে ওই এলাকায় একটি ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করছি, এতে আগামী বছর থেকে জলাবদ্ধতার সমস্যা আর থাকবে না।

প্রতিনিধি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর