রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকায় স্ত্রী-সন্তানসহ প্রবাসীকে হত্যা: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর 
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ঢাকায় স্ত্রী-সন্তানসহ প্রবাসীকে হত্যা: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
ছবির ইনসেটে নিহত তিনজন

রাজধানীর মগবাজারে ‘বিষ’ মেশানো খাবার খাইয়ে লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী মনির হোসেনসহ (৪৫) তার অন্ত্বসত্তা স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় জড়িত রফিকুল ইসলামের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। 

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের আথাকরা বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বাজারেই এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনিভেস্টিগেশন (পিবিআই) ডিএমপির ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) কামরুজ্জামান শিকদার নিহত মনিরের গ্রামের বাড়ি রামগঞ্জের দেহলা গ্রামে পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। 

এসময় বক্তব্য দেন ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মজুমদার, সাবেক সদস্য মো. বাচ্চু, নিহত মনিরের ভাই রুহুল আমিন, চাচাতো চাই জাকির হোসেন, ছেলে রাহাতুল ইসলাম বাপ্পী, রায়হান ইসলাম নিহান।  

মামলা ও পরিবার সূত্র জানায়, নিহত মনির রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের ছেরাজুল হক বেপারী বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুন প্রতিবন্ধী ছেলে নাঈম ইসলামকে (১৮) চিকিৎসার জন্য অন্ত্বসত্তা স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (৩৬) সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে যান। ডাক্তারের সিরিয়াল না পেয়ে রাতে মগবাজার সুইটস লিভ নামে একটি হোটেলে তারা রাত্রিযাপন করেন। সেখানেই খাবার খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

পরদিন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকালে স্বপ্না, এর কিছুক্ষণ পর নাঈম ও দুপুরের দিকে মনির মৃত্যুবরণ করেন। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয় বলে তখন প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন চিকিৎসকরা। পরে ১ জুলাই নিহত মনিরের ভাই প্রবাসী নুরুল আমিন বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে এ মামলায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। রফিক নিহত মনিরের অর্থ-সম্পদ জব্দ করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি রামগঞ্জের দেহলা গ্রামের কালি হোসেনের ছেলে। মনির ও রফিক একই এলাকার বাসিন্দা ও সম্পর্কীয় ছিল।

নিহত মনিরের ভাই রুহুল আমিন বলেন, রফিক আমার ভাই, ভাবী ও ভাতিজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। সে আমার ভাইয়ের অর্থ সম্পদ সব আত্মসাৎ করেছে। মামলায় গ্রেফতারের পর জামিনে বের হয়ে এখন হুমকি দিচ্ছে। 

পিবিআইয়ের ডিএমপির ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, মনির ও তার স্ত্রী-ছেলেকে হত্যার ঘটনায় রফিক নামে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন। 

তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে আমরা রফিককে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তদন্তের জন্য মনিরের গ্রামের বাড়িতে এসেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরাও চাই মনির ও তার স্ত্রী-সন্তান নিহতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি হোক।

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর