নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহ ও তীব্র সংকটে স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়িতে দিনের বেলা চুলা না জ্বলা, এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট এবং শিল্প এলাকায় গ্যাসের প্রেসার বা চাপ কম থাকায় বস্ত্র ও ডাইং খাতসহ বিসিক শিল্পাঞ্চলে মারাত্মক উৎপাদন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ফতুল্লায় ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ভোরে গ্যাসের দেখা মিললেও সকাল হতেই তা বিলীন হয়ে যায়। পরে গভীর রাতে আবার গ্যাস ফিরলে রান্না সারতে বাধ্য হচ্ছেন গৃহিণীরা। এতে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ফিক্সড গ্যাস বিল দেওয়ার পরও এলপিজি সিলিন্ডার কিনে ব্যবহারে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ। হঠাৎ সিলিন্ডার ব্যবহার বাড়ায় অভিজ্ঞতার অভাবে বহুতল ভবনগুলোতে বাড়ছে অগ্নিদুর্ঘটনার আতঙ্ক। পাইপলাইনের গ্যাসের অনিশ্চয়তায় মানুষ বিকল্প হিসেবে এলপিজির দিকে ঝুঁকলেও বাজারে চাহিদামতো সিলিন্ডার মিলছে না।
ছুটির দিনগুলোতে পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। আমদানিকৃত কাঁচামালের জটিলতা ও সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জের রফতানিমুখী নিটওয়্যার, টেক্সটাইল, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানাগুলোতে। এসকল শিল্প কারখানা গুলোর বেশির ভাগ নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় অবস্থিত। চাহিদামতো গ্যাসের প্রেশার না থাকায় উৎপাদন সীমিত বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন এবং বিদেশি ক্রেতাদের নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহ করা না গেলে বিশাল অঙ্কের ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় দিন গুনছেন শিল্পমালিকরা। সিএনজি স্টেশনগুলোতে প্রেশার না থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের নিটিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সেলিম সারোয়ার বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে। এতে নতুন পারচেজ অর্ডার হারানোর পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাই এবং বেতন-বকেয়া নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান দ্রুত এই সমস্যার সমাধার ।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ২৯% গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর সরবরাহব্যবস্থায় ধস নামে।
পেট্রোবাংলার জনসংযোগ শাখার উপমহাব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম খান জানান, প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গোর ঘাটতি এবং একটি এফএসআরইউ সাময়িক অকার্যকর থাকায় এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। খোলাবাজার থেকে এলএনজি কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও এই সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। পাইপলাইন ও বিকল্প জ্বালানি উভয় খাতেই এই বিশৃঙ্খলার কারণে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার জনসাধারণ এবং ব্যবসায়ী হতাশায় জীবন যাপন করছে।
প্রতিনিধি/টিবি




