ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, চালক ও পণ্যবাহী যানবাহনের শ্রমিকরা।
শুক্রবার দিনভর থেমে থেমে যানজট থাকলেও বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটের বিস্তৃতি নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর থেকে দাউদকান্দি পেরিয়ে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।
শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর ব্রিজ এলাকা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোনো কোনো অংশে গাড়ি ধীরগতিতে চললেও বেশিরভাগ সময় যানবাহন প্রায় স্থির ছিল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটে স্থবির আছে।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ইসলামী বক্তা আলী হাসান ওসামা। তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে ৪০ কিলো জ্যাম। রাত সাড়ে বারোটা থেকে এখন সকাল ছয়টা, এক গৌরীপুরেই আটকে আছি। সকাল ৮টায় ঢাকায় প্রোগ্রাম। অথচ মেঘনা ব্রিজ পার হতেই ১০টা বাজার আশঙ্কা। উন্নয়ন!’
মধ্যরাতে যানজটে আটকে থাকা বাসযাত্রী মাহাবুব আলম বলেন, সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দাউদকান্দিতে পৌঁছাতে পারিনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে একইভাবে আটকে আছি। এত দীর্ঘ যানজটে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খাদেমুল নামে একজন বলেন, রাত থেকে সড়কে আটকে আছি। কখন যানজট শেষ হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না। বাসের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষজন সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
দূরপাল্লার বাস স্টার লাইনের চালক জলিল আহমেদ বলেন, সড়কে গাড়ির চাপ এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে একটি লেন বন্ধ থাকায় সব গাড়িকে একটি লেন দিয়ে চলতে হচ্ছে। ফলে এই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও সংস্কারকাজ শুরু করা হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি প্রেম দাস রায় বলেন, যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়ারচর ব্রিজ এলাকায় সড়ক সংস্কারকাজ। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা বিস্তারিত জানাতে পারবে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি সফিউল ইসলাম বলেন, ‘আষাড়িয়ারচর এলাকায় মহাসড়কের দুই লেনের এক লেনে সড়ক বিভাগ জরুরি সংস্কারকাজ করছে। এতে এক লেন দিয়ে পর্যায়ক্রমে যানবাহন চলাচল করায় সাময়িকভাবে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিনিধি/এমআর




