চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নে পদ্মার শাখা মরা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামের নজিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা সবাই চরচাকলা গ্রামের ২০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী তিনটি পরিবারের সন্তান।
নিহত শিশুরা হলো, দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামের মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও তার বোন আরিবা (৮), শরিফুলের মেয়ে শরিফা (১২), নিজামুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) এবং তার বোন সুরাইয়া (৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৮আগষ্ট) দুপুরে জুমার নামাজের সময় স্কুল ছুটির সুযোগে এই পাঁচ শিশু একসঙ্গে মরা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে এক শিশু পানিতে তলিয়ে যেতে লাগলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাকি চার শিশুও একে একে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
এ সময় এক নারী শিশুদের তলিয়ে যেতে দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান। তবে উদ্ধারকাজ শেষে পাঁচজনকেই নিথর অবস্থায় পানি থেকে তুলে আনা হয়।
শুক্রবার (২৮আগষ্ট) বাদ মাগরিব স্থানীয় চরচাকলা গোরস্থান মাঠে একসঙ্গে শিশুগুলোর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে চরচাকলা গোরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবর খুঁড়ে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচ শিশুর এমন বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের হৃদয়বিদারক দৃশ্য গ্রামে আগে কখনো দেখা যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, স্থানীয়রা নদী থেকে শিশুদের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারগুলোর কাছে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফজাল হোসেন রাজন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের দাফনের জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ভবিষ্যতেও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে প্লাবিত ও নদীসংলগ্ন এলাকার অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এআরএম




