শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নেত্রকোনায় হাওরে চরহাইজদা ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক লুট

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা 
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

নেত্রকোনায় হাওরে চরহাইজদা ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক লুট

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙাপোতা হাওরে থাকা চরহাইজা ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক লুটের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের করাচাপুর গ্রামের সামনে থাকা চরহাইজদা ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে ব্লক লুট শুরু হয়। এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ব্লক নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন ব্লক লুটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে অতিঝুঁকিপূর্ণ ৫.৩ কিলোমিটার স্থানে ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

স্থানীয় লোকজন ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে চরহাইজদা ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের প্রায় দুই হাজারের বেশি ব্লক লুট করে দিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় প্রতিরাতেই ওই বাঁধ থেকে ব্লক লুট চলছেই। গত মাসেও বাঁধটির কয়েকটি অংশ রাতের আঁধারে কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। তখনও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। এভাবে ব্লক লুট চলতে থাকলে বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কার মুখে পড়বে কৃষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট মোহনগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।

এদিকে, গত ১৮ আগস্ট রাতে বেড়িবাঁধের ব্লক লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরান্তর গ্রামের বজলু মিয়া নামে এক ব্যক্তি। তার দাবি- পার্শ্ববর্তী ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের ২৭/২৮ জন লোক রাতে নৌকায় করে এসব ব্লক লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। বাধা দেওয়ায় তাকে অশালীন গালাগাল করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। পরে তিনি চলে যান। এর জেরে পরদিন রাতে বজলু মিয়ার মাছের আড়তেও হামলা চালায় ব্লক লুটপাটকারীরা। এ ঘটনায় বজলু মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, ধরুন বাহিয়াহারী গ্রামের লোকজন বেড়িবাঁধের এসব ব্লক রাতের আঁধারে নিয়ে গেছে। ওই গ্রামের ঘরে ঘরে এসব ব্লক পাওয়া যাবে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্লক লুট থামেনি। এখন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ব্লক ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। 

বরান্তর গ্রামের কৃষক তানিম খান আদনান বলেন, গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে বেড়িবাঁধের ব্লক লুট শুরু হয়েছে। তারপর থেকে প্রতিরাতেই ব্লক লুট হচ্ছে। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, থানায় অভিযোগ, জিডি হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। মাস দেড়েক আগে বেড়িবাঁধটি রাতের আঁধারে কয়েকটি জায়গায় কেটে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। সেই বিষয়েও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ ও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলে কেউ এসব ব্লক লুট করার সাহস পেত না।

একই গ্রামের যুবক বায়েজিদ হোসেন বলেন, এভাবে ব্লক লুট হয়ে গেলে বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। সামান্য বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাবে। দিনশেষে ভুক্তভোগী হবে হাওরের কৃষকরা। ব্লক লুটের বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ওই এলাকার লোকজনের সাথে আলোচনা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে লুট হওয়া ব্লক আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইউএনও আমেনা খাতুন বলেন, পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যারা এসব ব্লক নিয়েছে তাদের বাড়িতেও গিয়ে দেখে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে বাঁধের যে জায়গা থেকে ব্লক নিয়েছিল, সেখানে ফের রেখে আসার জন্য। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা পাউবোর কর্মকর্তা থানায় জিডি করেছেন। পাশের গ্রামের যারা এসব ব্লক নিয়েছে, পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে ব্লক ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সময় বেধে দিয়েছেন। 

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর