শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সিলেট সীমান্তে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সিলেট সীমান্তে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ

সিলেট সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় কসমেটিকস, গরু, মহিষ, চকলেট, কম্বল, জিরা, দুধ, বাসমতি চাল, বাটার, বিস্কুট, ট্যাং, মোটরসাইকেল, রসুনসহ প্রায় ৪৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানের পণ্য জব্দ করেছে বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় তামাবিল, বিছনাকান্দি, লাফার্জ, সোনারহাট, সেনালীচেলা, পান্থুমাই, সংগ্রাম ও প্রতাপপুর বিওপির সদস্যরা পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

এছাড়া অবৈধভাবে বালু-পাথর বহনকারী বাংলাদেশি বারকি নৌকাও জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব চোরাচালানের পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৪৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বাত্মকভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানের পণ্যসহ চারটি পিকআপ জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় জিরা, শাড়ি ও বিড়ি। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপগুলোর চালকরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানাধীন চারিকাটা ইউনিয়নের আঞ্জা গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য ও যানবাহন জব্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে ৫০ বস্তা ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া ৪৩৪ পিস ভারতীয় শাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং ৭ লাখ ১৪ হাজার শলাকা ভারতীয় নাসির উদ্দিন বিড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

এ সময় চোরাচালান পণ্য বহনে ব্যবহৃত চারটি EX2 ACE পিকআপও জব্দ করা হয়। এসব গাড়ির আনুমানিক মূল্য ৪৮ লাখ টাকা।

অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপগুলোর চালকরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ পলাতক চালক ও চোরাকারবারিদের পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্তে কাজ শুরু করেছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানীর পণ্য ও চারটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক চালক ও চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রতিনিধি/এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর