শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ময়মনসিংহে কাস্টমস কর্মীকে ঘুমের বড়ি খাইয়ে হত্যা, মরদেহ ১৫ টুকরা

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

শেয়ার করুন:

ময়মনসিংহে কাস্টমস কর্মীকে ঘুমের বড়ি খাইয়ে হত্যা, মরদেহ ১৫ টুকরা
অভিযুক্ত বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা (১৯) ও তার চাচাতো ভাই সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় কাস্টমস কর্মী আবু রায়হান তালুকদার (৪০) হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, টাকা আত্মসাতের উদ্দেশে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা (১৯) দুধের সঙ্গে ২০টি ঘুমের বড়ি খাইয়ে রায়হানকে অচেতন করেন। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ ১৫ টুকরা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহের আদালতে রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে (২০) হাজির করা হয়। জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেনের আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

নিহত আবু রায়হান তালুকদার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, রাজু প্রায় চার বছর ধরে রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি রায়হানের মা রাহেলা খাতুনেরও দেখাশোনা করতেন। দীর্ঘদিন ওই পরিবারের সঙ্গে থাকার সুবাদে রাজু তাদের আর্থিক লেনদেন ও মূল্যবান সামগ্রীর বিষয়ে জানতেন।

জবানবন্দিতে রাজু জানান, টাকার লোভে ২৪ জুলাই রাতে তিনি রায়হানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুধের সঙ্গে ২০টি ঘুমের বড়ি মিশিয়ে তাকে পান করান। কিছুক্ষণ পর রায়হান গভীরভাবে অচেতন হয়ে পড়লে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করেন রাজু। পরে ঘরে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নেন।

রাজুর জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি রায়হানের ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে ঢাকায় যান এবং সেটি ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। রায়হান নিখোঁজ থাকার সময় তার মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন রাজু।

হত্যার পর মরদেহ গুম করতে চাচাতো ভাই সোহেলকে ডেকে আনেন রাজু। দুজন মিলে ঘরের ভেতর চাপাতি দিয়ে মরদেহটি ১৫ টুকরা করেন। পরে সেগুলো তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ পূর্ব দিকে একটি পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে ফেলে আসেন। মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার পর হত্যার আলামত মুছে ফেলতে তারা ঘরের মেঝে ও বাথরুম পরিষ্কার করেন। এ কাজে ডিটারজেন্ট, হ্যান্ডওয়াশ ও হারপিক ব্যবহার করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিখোঁজের নয় দিন পর ২ আগস্ট বিকেলে রায়হানের বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও চাদরে প্যাঁচানো অবস্থায় তার ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, টাকা ও সম্পত্তি ভোগদখলের লোভে কেয়ারটেকার রাজু মির্জা, তার বন্ধু সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল এবং অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রায়হানকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশে ডোবায় ফেলে রাখা হয়।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাড়ির বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার রাজু টাকার লোভে একাই রায়হানকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করতে বন্ধুর সহযোগিতা নেন। এখন পর্যন্ত এই দুজন ছাড়া আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিহতের টাকা আত্মসাৎ করা। ঘটনার পরপরই নিহতের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। এ কারণে আসামিরা ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেশি পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। দুজনই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর