শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বর্গাচাষের জমি নিয়ে সংঘর্ষ, নেত্রকোনায় কৃষককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ এএম

শেয়ার করুন:

বর্গাচাষের জমি নিয়ে সংঘর্ষ, নেত্রকোনায় কৃষককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ। ছবি: প্রতীকী

নেত্রকোনার বারহাট্টায় বর্গাচাষের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকেরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম এবং অভিযুক্ত আবুল হোসেন ও হিল্লোল পরস্পর চাচাতো ভাই। আর জমি বর্গাদাতা আল্কাস মাস্টার আবুল হোসেনের আপন মামা। মামার জমি বর্গা নিয়ে চাষ করলেও ভাগ্নেরা ঠিকমতো ধানের ভাগ না দেওয়ায় এবার জমিটি রফিকুলকে চাষ করতে দেন। কিন্তু সম্প্রতি আবুল ও হিল্লোল নিজেরাই ওই জমি চাষ করবেন বলে রফিকুলকে জমিতে যেতে বাধা দেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এর ধারাবাহিকতায় বিরোধ মীমাংসার জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবুলের ভগ্নিপতি সাজু মিয়ার মধ্যস্থতায় স্থানীয়ভাবে দরবার বসে। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

নিহতের ভাই জহিরুলের অভিযোগ, এ সময় আবুল হোসেন ও হিল্লোল রফিকুলকে কিল-ঘুষি ও দেশীয় লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। একপর্যায়ে রফিকুল অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের প্রতিবেশী হাসিম উদ্দিন বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি আবুল ও হিল্লোল মিলে রফিকুলের গেঞ্জির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাচ্ছে এবং মাথা ও ঘাড়ে কিল-ঘুষি মারছে। তারা বাঁশের খুঁটি দিয়েও আঘাত করছে। আমরা থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। একপর্যায়ে রফিকুল অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর পাই।

ওসি চম্পক দাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর