বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা
প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় করা মামলায় মো. আবু মিয়া (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা বকুল মিয়া (৫০) পলাতক রয়েছেন। তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

বকুল মিয়া ভুক্তভোগী ছাত্রীর সম্পর্কে খালু হন বলে জানা গেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতেই মামলার ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীসহ পরিবারের ভাষ্য, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর  স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হয়। তখন সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরবর্তীতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রীকে পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হতো।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে অন্য লোকদের দিয়ে ধর্ষণ করানো হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে তাকে বিভিন্ন লোকজনকে দিয়ে ধর্ষণ করানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১ আগস্ট ছাত্রী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।

১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরীক্ষা করানো হলে ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত জানার পর ২৬ আগস্ট কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী জানায়, ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার খালু বকুল মিয়া ও আবু মিয়া বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য মানুষের দ্বারাও ধর্ষণ করাইছে। আমি যে বলে দিয়েছি, এই জন্য আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এইসবের কঠিন বিচার চাই।’

প্রধান অভিযুক্ত বকুল মিয়ার দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন। 

তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। আজ রাতেই বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের এমপি মহোদয়েরও নির্দেশ রয়েছে- দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কাউকে দলে রাখা হবে না।

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গতরাতে মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্ত মো. আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর