বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নারীর জীবন বাঁচানো সেই পুলিশ সদস্য পুরস্কৃত

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

নারীর জীবন বাঁচানো সেই পুলিশ সদস্য পুরস্কৃত
পুলিশ সুপার আব্দুর রউফের কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন সেই পুলিশ সদস্য। ছবি: ঢাকা মেইল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেতু থেকে তিতাস নদীতে আত্মহত্যার উদ্দেশে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করায় পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসানকে পুরস্কৃত করেছে জেলা পুলিশ। সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রেসিয়েশন ও অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কনস্টেবল অমিত হাসানের হাতে সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রেসিয়েশন ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ।

কনস্টেবল অমিত হাসান নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) বদলি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার প্রথম সেতু থেকে ২৪ বছর বয়সী এক নারী তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে ঘুরতে যাওয়া কনস্টেবল অমিত হাসানও এক মুহূর্ত দেরি না করে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে ওই নারীকে উদ্ধার করে একটি নৌকায় করে তীরে নিয়ে আসেন। 

এরপর দ্রুত ওই নারীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে আসেন। তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল অমিত হাসানের বিদায় উপলক্ষে তার ব্যাচমেট কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী, মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে তারা শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় ঘুরতে ও নাশতা করতে গিয়েছিলেন। এ সময় তারা দেখতে পান, এক নারী সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে অমিত হাসানও নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই নারী আত্মহত্যার উদ্দেশে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পুলিশ সদস্য অমিত হাসান তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে তার মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।

ওই নারীর মা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামের ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ বলেন, তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করায় কনস্টেবল অমিত হাসানকে তার সাহসিকতা ও মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

পুলিশ সদস্য অমিত হাসান জানান, এমন একটা মহৎ কাজের অংশ হতে পেরে- বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমাকে এর স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃত করায় জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর