ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের গগন বাজারে তৌহিদুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলাটির বিচার শেষ হয়নি। স্বজন হত্যার বিচার পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর আদালতে ঘুরছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলার কয়েকজন আসামি জামিনে বের হয়ে তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। বিশেষ করে সিদ্দিক হোসেন, জসিম উদ্দিন, কুদ্দুস হাওলাদার ও রিপন খান বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এতে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
২০১৫ সালের ৪ জুন রাত সাড়ে আটটার দিকে গগন বাজারে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে তৌহিদুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৬ জুন তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী নূরুন্নাহার বাদী হয়ে ২১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এরপর থেকে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
নূরুন্নাহার বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়েছি ১১ বছর আগে। এরপর থেকে বিচারের আশায় আদালতে ঘুরছি। এখন আসামিরা জামিনে বের হয়ে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। দ্রুত মামলার বিচার শেষ করে স্বামীর হত্যার বিচার দেখতে চাই।’
নিহত তৌহিদুলের বোন হেনা ইসলাম ও ভাই মুহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত মামলার বিচার শেষ করার পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
হুমকির অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য জানতে রিপন, সিদ্দিক, জসিম ও কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির বাবুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। নিহতের পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
প্রতিনিধি/এসএস




