যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটিতে অবস্থিত মুন্সি মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশন পুনরায় সচল করা এবং আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশনটি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের একটি পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে একটি মেইল ট্রেন ছাড়া কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ নেই। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, যবিপ্রবির কাছাকাছি হওয়ায় মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেনের স্টপেজ চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। বর্তমানে ট্রেনে যাতায়াত করতে হলে স্থানীয়দের প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে যশোর জংশন রেলওয়ে স্টেশনে যেতে হয়। মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনটি পুনরায় সচল হলে এই অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে না।
কৃষিপ্রধান এ এলাকার কৃষকদের সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ চালু হলে কৃষকরা স্বল্প খরচে সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিপণ্য পাঠাতে পারবেন। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

মানববন্ধনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও দাবিটির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাত্মতা ঘোষণা করছে। মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেনের স্টপেজ চালুর জন্য জোর দাবি জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্টেশনটি চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মানববন্ধনে দ্রুত দাবিটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আহ্বায়ক মাস্টার শিমুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট অধ্যাপক মশিউল আজম, চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান, মাওলানা মেহেদী হাসান যশোরী, ব্যবসায়ী সাদিকুল আযম, দোগাছিয়া নিউ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন, চুড়ামনকাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরুদা খানম, ছাতিয়ানতলা চুড়ামনকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান, মুন্সি মেহেরুল্লাহ একাডেমির প্রধান শিক্ষক আবু কালাম, ছাতিয়ানতলা কে আই সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যক্ষ আব্দুল গনি খান, পূজা উদযাপন কমিটির নেতা সন্তোষ কুমার সরকার, চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ ও জালাল হোসেন, যুবনেতা নাহিদ হাসান তপন, ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, শামিম হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম।
এছাড়া কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন ছাতিয়ানতলা যুব ক্লাবের সভাপতি যুবনেতা শামীম কবির ওয়াসিম ও সাধারণ সম্পাদক জিকো হোসেন।
প্রতিনিধি




