গাজীপুরের টঙ্গীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বন্ধু আকাশ সরদারকে (২১) ডেকে এনে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বন্ধু মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মিঠুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। গ্রেফতার মিঠু নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। আকাশ ও মিঠু দুজনই আগে কম্বোডিয়ায় প্রবাসী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের অপু মিয়ার মাধ্যমে আকাশ ও মিঠু কম্বোডিয়ায় যান। প্রায় তিন মাস আগে তারা দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর আকাশ বেকার হয়ে পড়লে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত ২৭ জুলাই তাকে সোনারগাঁয়ে ডেকে নেন মিঠু। পরে তাকে অপহরণ করে টঙ্গীতে নিয়ে আসা হয়।
ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের হোয়াটসঅ্যাপে কল করে সুমন নামে এক ব্যক্তি আকাশকে আটকে রাখার কথা জানান। এরপর থেকেই আকাশের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে আকাশের বাবা মো. করিম সরদার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু, মো. অপু মিয়া ও মো. সুমন মিয়াকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
র্যাব-১-এর একটি দল গত ২৩ আগস্ট টঙ্গী পশ্চিম থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিঠুকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
প্রতিনিধি/এসএস




