সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নিহত

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নিহত
নিহত মো. সাইফুল। ছবি: ঢাকা মেইল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের মিয়ানমার অংশে আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মো. সাইফুল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীন টার্গুপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৫২ সংলগ্ন মিয়ানমার অংশে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত সাইফুল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনছড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. সাবেরের ছেলে।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার-৫২ সংলগ্ন শূন্যলাইন থেকে প্রায় ৪০০ মিটার মিয়ানমারের ভেতরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন ডুইল্যাঝিরি ক্যাম্পের কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটে। ওই এলাকায় পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ওপর সাইফুলের পা পড়লে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির প্রাথমিক তথ্যমতে, বাঁশ কাটার উদ্দেশ্যে সাইফুল মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। বাঁশ কাটার সময় অসাবধানতাবশত ল্যান্ডমাইনের ওপর পা পড়লে এ বিস্ফোরণ ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন স্থানে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখার ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। 

স্থানীয়রা জানান, গবাদিপশু চরানো, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত করতে হয়। ফলে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি তাদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে।

স্থানীয় শফিকুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান জানান, ভালুকিয়া, তুমব্রু ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের মধ্যে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে সীমান্তবর্তী এলাকায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাত ও ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় সীমান্ত এলাকায় আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসমাত জাহান ইতু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় অহেতুক ঘোরাফেরা না করার জন্য স্থানীয়দের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর