সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ফরিদপুরে চিকিৎসার নামে কিশোরীকে নিপীড়ন, কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ফরিদপুরে চিকিৎসার নামে কিশোরীকে নিপীড়ন, কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরে কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মো. হানিফ শেখ (৫১) নামের এক কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাড়িতে কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ বোয়ালমারীর একটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে ঝাড়ফুঁক করাতে হানিফ শেখের কাছে নেওয়া হয়। ঝাড়ফুঁক করার পরদিন একই কথা বলে কিশোরীকে আবার তার ঘরে নিয়ে যান হানিফ। সেখানে তিনি কিশোরীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন

হাইকোর্টের রায়ে ফেনীতে নুসরাতের মায়ের সন্তোষ, পরিবারের নিরাপত্তা দাবি

পরে কিশোরী বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে ২৪ মার্চ তার বাবা বাদী হয়ে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারীর ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূধন পান্ডে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া বলেন, কবিরাজি চিকিৎসার নামে যৌন নিপীড়ন জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর