রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে লোহার সেতুর মালামাল ‘আত্মসাতের চেষ্টা’ 

জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে লোহার সেতুর মালামাল ‘আত্মসাতের চেষ্টা’ 
এদবর খালে পুরোনো লোহার সেতু। ছবি: ঢাকা মেইল

ঝালকাঠির রাজাপুরে একটি লোহার সেতুর বিমসহ অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন আকনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই সেতুর অংশবিশেষ খুলে নেওয়ার চেষ্টা করায় চার গ্রামের কয়েকশ মানুষের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় এদবর খালের ওপর থাকা পুরোনো লোহার সেতুর বিমসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন মামুন আকন।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই সেতুটি ব্যবহার করে উত্তর তারাবুনিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে আসছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে খাল পার হতেন। এটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় এর কয়েকটি অংশের স্লাব ভেঙে যায়। এরপরও স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে সুপারি গাছ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পার হয়ে চলাচল করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, মানুষের চলাচলের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সেতুর বিম ও অন্যান্য লোহার মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের লোকজন এসে সেতুর মালামালের তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরি করেন। উদ্ধার করা মালামাল স্থানীয় গ্রাম পুলিশ হেমায়েতের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানায়।

অভিযোগের বিষয়ে মামুন আকন বলেন, সেতুর মালামাল তুলেছি পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য। সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাঈনুল হায়দার নিপু এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের অনুমতি নিয়ে খাল থেকে আয়রন ব্রিজের বিম ও মালামাল তুলেছি।

তবে তার এ দাবির সঙ্গে একমত নন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান সৈয়দ মাঈনুল হায়দার নিপু বলেন, আমি কাউকে ওই ব্রিজের বিমসহ মালামাল তুলে নেওয়ার অনুমতি দিইনি। ব্রিজের মালামাল অন্যত্র নিতে হলে পরিষদে রেজুলেশন করতে হবে। মানুষের চলাচলের জন্য নতুন ব্রিজ কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা করে তারপর মালামাল নিতে হবে। তাও ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি করবে। এখানে মামুন আকনের কোনো অধিকার নেই মালামাল খুলে নেওয়ার।

এ বিষয়ে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রতন দেবনাথ বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এসব কাজ দল সমর্থন করে না। এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এস এম জিয়াউল হক বলেন, মালামাল ওঠানোর আগে আমাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমরা বিষয়টি শুনে লোক পাঠিয়ে সিজার লিস্ট করেছি। পরে মালামাল চৌকিদার ইউনিয়ন পরিষদে এনে রেখেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। জেনে দেখি। ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর