পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় বিচার-সালিশে সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৪০ বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ১০ থেকে ১২টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২৩ আগস্ট) নেছারাবাদ থানায় এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বরছাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুদুর রহমান (৪৬)। অভিযোগে স্থানীয় সরোয়ার হোসেন (৫২), ফরদিনসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুদুর রহমান ও অভিযুক্ত সরোয়ার হোসেন একই বাড়ির বাসিন্দা। সম্প্রতি একটি ডকইয়ার্ড থেকে স্টিলের প্লেট চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। সেখানে সরোয়ার হোসেনকে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই সালিশে মাসুদুর রহমান সাক্ষ্য দেন। এরপর থেকেই সরোয়ার তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন মাসুদুর।

মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, সালিশে সাক্ষ্য দেওয়ার জেরে শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে প্রায় ৪০ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যবহার করে আসা হাঁটার রাস্তাটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ১০ থেকে ১২টি পরিবারের সদস্যদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা বেড়া সরানোর চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে। মাসুদুরের অভিযোগ, সরোয়ারের স্ত্রী দা হাতে নিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। একই দিন বিকেলে তার শিশু ছেলেকেও বাড়ি থেকে দোকানে যাওয়ার সময় গালিগালাজ ও লোহার খুন্তি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে তাদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ তাতে রাজি হয়নি বলে দাবি করেছেন মাসুদুর।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সরোয়ার হোসেন বলেন, জায়গাটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ঘরের পেছনের রাস্তা ও পুকুরপাড়ের জায়গা বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হবে। ওই রাস্তা দিয়ে কেউ চলাচল করতে পারবে না।
প্রায় ৪০ বছর ধরে স্থানীয়রা ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন—এ বিষয়ে সরোয়ারের আইনগত অধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেননি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




