রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ, দুই আসামির যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ, দুই আসামির যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯) ও একই গ্রামের ওসমান ব্যাপারী (২৯)। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই মাদরাসাছাত্রী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গোয়ালন্দ ঘাটে যায় ছাত্রীটি। সেখানে তাকে না পেয়ে চাচাতো ভাইকে ফোন করে। পরে চাচাতো ভাই তাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

এ সময় মামলার দুই আসামি ফোন করে তাদের ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় যেতে বলেন। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা সেখানে যান এবং রাতে থাকেন।

পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সুমন মোল্যা ওই ছাত্রীর কক্ষে ঢুকে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে ওসমান ব্যাপারীও তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে তাকে ও তার চাচাতো ভাইকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাড়িতে ফিরে ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনা জানায়। পরে তার মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া রতন বলেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর