রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘স্ত্রী-সন্তানসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষক গণপতি ছিলেন মাটির মানুষ’

রেজাউল করিম জীবন, রংপুর
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘স্ত্রী-সন্তানসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষক গণপতি ছিলেন মাটির মানুষ’

‘গণপতি চক্রবর্তী স্যার একজন মাটির মানুষ ছিলেন। তিনি কখনই কারো সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেননি। জিলা স্কুলে ৫৫ শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। সবাই এক বাক্যে তাকে ভালো বলবেন। তাকে এভাবে খুন হতে হলো তা মানা যায় না। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই—বলে জানিয়েছেন রংপুর জিলা স্কুলের গণিতের সিনিয়র শিক্ষক মোছাৎ জিন্নাত আরা বেগম স্মৃতি।

গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি বাণিজ্যের শিক্ষক ছিলেন, তবে বাংলা পড়াতেন। শিক্ষকতা জীবনে কখনও কোনো সহকর্মী ও কর্মচারী কিংবা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেননি তিনি। কারো সঙ্গে মনোমালিন্য কিংবা কটু কথা হয়নি তার। তিনি ব্রাক্ষণ গোত্রের ছিলেন। তিনি রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও জিলা স্কুলের স্বরসতি পূজা পরিচালনা করতেন। তিনি এক মেয়ে, এক ছেলে স্ত্রীসহ রংপুর নগরীর মাছুয়া পাড়া মন্দির সংলগ্ন নির্মাণাধীন দোতলা বাসায় বসবাস করতেন। তার বড় মেয়ে আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন এবং ছোট ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গণপতি চক্রবর্তী চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন রংপুর জিলা স্কুল থেকে। এক বছরের অবসরকালীন ছুটি চলছিল তার। তিনি অবসর সময়ে নগরীর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন।

রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক মুক্তিরানী বলেন, গণপতি চক্রবর্তী দাদা শিক্ষক হিসেবে একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। তিনি আমাকে দিদি বলে ডাকতেন। তিনি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার এবং পরিবারের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে আমরা ভাবতেও পারছি না।

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক সাফিয়ার রহমান বলেন, গণপতি চক্রবর্তী আমার সহকর্মী ছিলেন। তিনি খুবই শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ পুলিশ দ্রুত বের করে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করবে এই দাবি জানাই।

 

রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গণপতি চক্রবর্তী খুবই বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তার শিক্ষকতা জীবনের বেশিরভাগ সময় রংপুর জিলা স্কুলেই কেটেছে। তিনি এই স্কুল থেকেই অবসর নিয়েছেন। তিনিসহ তার পরিবার যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয় এই দাবি করছি।

উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও স্ত্রী, সন্তানসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়াস চক্রবর্তী (১২)।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর