শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

দেশের ছাগলে প্রথমবার বারখোল্ডেরিয়া ব্যাকটেরিয়া শনাক্তের দাবি বাকৃবির

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, বাকৃবি
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

দেশের ছাগলে প্রথমবার বারখোল্ডেরিয়া ব্যাকটেরিয়া শনাক্তের দাবি বাকৃবির

বাংলাদেশের ছাগলের মধ্যে প্রথমবারের মতো ‘বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স’ (Burkholderia cepacia complex) ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করার দাবি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। মাটি, পানি, উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণীর দেহে টিকে থাকতে সক্ষম এ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেশের ছাগলে আগে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত গবেষণায় এ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গবেষকেরা জানান, বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্সের কিছু প্রজাতি মানুষের গুরুতর সংক্রমণের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান। প্রধান গবেষক ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। গবেষণায় বাকৃবির ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের মেডিসিন বিভাগের গবেষকদের পাশাপাশি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের গবেষকেরাও যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অনুদানে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

ea7b77d7-f98a-4a44-83d0-35d561a98529

গবেষণায় বাকৃবির একটি খামার থেকে ৪০টি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও গর্ভপাতের পূর্ব ইতিহাস থাকা ৩০টি ছাগল এবং সুস্থ ১০টি ছাগলকে নিয়ন্ত্রণ দল হিসেবে রাখা হয়। নমুনাগুলো ব্যাকটেরিয়া কালচার, সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা, পিসিআর, ডিএনএ সিকোয়েন্সিং ও বংশগত সম্পর্ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।

গবেষকেরা জানান, অসুস্থতার ইতিহাস থাকা কয়েকটি ছাগলের নমুনায় বারখোল্ডেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে আণবিক পরীক্ষা ও ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে সেগুলোকে বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সুস্থ ছাগলের নমুনায় কোনো ব্যাকটেরিয়াল বৃদ্ধি পাওয়া যায়নি।

শনাক্ত ব্যাকটেরিয়ার বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ভারত, জাপান ও চীনে আগে শনাক্ত হওয়া বারখোল্ডেরিয়া প্রজাতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় পাওয়া ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জেনব্যাংক তথ্যভান্ডারেও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

72eb0a36-5b87-4b40-87cb-b6fb6785d71b

অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ছাগলের মধ্যে বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্সের উপস্থিতির এটি প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। এ গবেষণার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াটির বিস্তার, সংক্রমণের উৎস, প্রাণিস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স পরস্পর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ব্যাকটেরিয়ার একটি গোষ্ঠী। এগুলো পরিবেশে টিকে থাকতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সুযোগসন্ধানী রোগজীবাণু হিসেবে পরিচিত। এর কিছু প্রজাতি মানুষের গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন

এআই যুগের প্রস্তুতিতে যবিপ্রবি, কোডিং ছাড়াই এআই শেখার সুযোগ 

গবেষণায় যুক্ত আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান বলেন, এ গবেষণার মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণা দেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এ গবেষণায় বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্সকে ছাগলের গর্ভপাতের সরাসরি কারণ হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ছাগল থেকে মানুষের মধ্যে এ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হওয়ার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। কারণ, গবেষণায় মানুষের বা খামারের পরিবেশের নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।

তাদের মতে, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছাগল, খামারের পরিবেশ ও মানুষের নমুনা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর