যশোর সদর উপজেলার কচুয়ার দেয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে স্লোগান দেন এবং বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে আসীন হওয়ার পর থেকে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে আসছেন। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তাদের দাবি, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের ইট, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও গাছ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়।
তাদের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ে একটি দলীয় সিন্ডিকেট গড়ে তুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান ও ফলাফলে ধারাবাহিক অবনতি ঘটছে। এলাকার অনেক শিক্ষার্থীও বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ভর্তি হতে আগ্রহী নয় বলে দাবি করেন বক্তারা।
আরও পড়ুন: হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় স্কুলের বাথরুম থেকে ছাত্রী উদ্ধার
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিদুল ইসলামের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায়ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে ভিডিওটির সত্যতা বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মানববন্ধন থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অভিভাবক মশিয়ার রহমান খান, আসাদুজ্জামান, মশিয়ার রহমান, আফছার আলী মোল্লা, মজিদ মোল্লা ও ইলিয়াজ মোড়লসহ স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নিয়ম মেনেই হয়েছে। এখানে কোনো অর্থের লেনদেন হয়নি। আমরা সরকারের কর্মচারী। যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই চলতে হয়। এখানে কোনো দলাদলি করা হয়নি। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সবই মিথ্যা। একটি পক্ষ নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য এসব কর্মকাণ্ড করছে।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিদুল ইসলামের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।




