শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বন্দরে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে কুপিয়ে হত্যা, সড়কে আগুন

জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ এএম

শেয়ার করুন:

বন্দরে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে কুপিয়ে হত্যা, সড়কে আগুন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল (৪০) নামের এক রাজনৈতিক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় সিকদার মালেক সাহেবের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ি এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার প্রধান বাদী ছিলেন তিনি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালেহনগর এলাকায় রাস্তায় একা পেয়ে শেখ সিফাতের গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বুলবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী মামলার (মামলা নম্বর-১৪) প্রধান বাদী ছিলেন বুলবুল। ওই মামলায় শেখ সিফাত ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

আরও পড়ুন: হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় স্কুলের বাথরুম থেকে ছাত্রী উদ্ধার

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহার না করা এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাদের দাবি, শেখ সিফাতের গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের শাহী মসজিদ ও বউবাজার এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি ও সশস্ত্র হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাছুম বিল্লাহ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরে বুলবুল মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় একটি ‘কিশোর গ্যাং’-এর নেতা শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। ওই মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন বাসিন্দা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন মূল অভিযুক্ত শেখ সিফাতের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে হামলা চালান এবং সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। নিহতের পরিবার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর