বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

এক বিদ্যালয়ে দুই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর 
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

এক বিদ্যালয়ে দুই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

নাটোরের বাগাতিপাড়ার ভিতরভাগ বাইআপ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন দুই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন ১৯৯৪ সালের ২ জুলাই যোগ দিয়ে চলতি বছরের ৩০ মে অবসরে যান। এরপর সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তার নিয়োগ নিয়ে ২০১৭ সালের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়। গত জুন মাসে বর্তমান এডহক কমিটি শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০২ সালে রফিকুল ইসলামের নিয়োগের সময় তার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। ফলে তার আবেদন বাতিল হলেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা বিধিসম্মত হয়নি। একই সঙ্গে, ২০০২ সালের ১ জুন থেকে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রফিকুল ইসলাম বেতন হিসেবে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৩৮ টাকা গ্রহণ করেন। যা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ জানান, ঘটনাটি অনেকদিন আগের হওয়ায় আমার সঠিক ভালোভাবে মনে নেই। তবে কোনো অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যোগ্যতা না থাকার পরেও কীভাবে নিয়োগ পেলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা বোর্ড আছে, আমি তাদের কাছে জবাব দেব। 

এডহক কমিটির সভাপতি মো. মাহাতাব হোসেন দাবি করেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন কমিটির মাধ্যমে রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে এডহক কমিটির সিদ্ধান্তে সিনিয়র শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. ওয়াজেদ আলী মৃধা জানান, নিয়ম অনুযায়ী রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালী জানান, বিষয়টি শুনেছি। নিয়ম অনুসারে এক বিদ্যালয়ে দুইজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকতে পারেন না। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর