নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে সৈয়দ সোলায়মান কবির খোকন (৫৫) নামে এক ভুয়া দন্ত চিকিৎসককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই অভিযানে অনুমোদনহীন একটি ডেন্টাল ক্লিনিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিভিল সার্জন গোলাম মাওলাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় থানা পুলিশের একটি দল সঙ্গে ছিল।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সৈয়দ সোলায়মান কবির খোকন পৌরশহরের দেওথান এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোহনগঞ্জে ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের অপারেশনের পর এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। ফলে বিকেলে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে থাকা কয়েকটি ক্লিনিকে অভিযান চালান প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
অভিযানের সময় সোলায়মান কবিরকে দন্ত চিকিৎসা প্রদান করতে দেখা যায়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তার সনদ ভুয়া প্রামণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওই এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিককে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আজকের অভিযানে সৈয়দ সোলায়মান কবির খোকন নামে একজন ভুয়া দন্ত চিকিৎসকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার জরিমানা করা হয়। পাশের আরেক অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে সঙ্গে থাকা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল আওয়াল বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সৈয়দ সোলায়মান কবির খোকনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।
গত ১০ আগস্ট মোহনগঞ্জে রফিকুল ইসলাম হিরণ নামে এক ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের কাছে দাঁতের মাড়ির অপারেশন করানোর পর লিয়ন মিয়া নামে (১৪) এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে টনক নড়ে প্রশাসনের।
প্রতিনিধি/এলএ




