বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কলকাতায় হোটেলে আগুন, প্রাণ গেল সাভারের বাবুর

উপজেলা প্রতিনিধি, সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

কলকাতায় হোটেলে আগুন, প্রাণ গেল সাভারের বাবুর
মৃত বাবু। ছবি: ঢাকা মেইল

ঢাকা সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ির আহম্মেদ বাবু (৩৭) কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। দোকানের মালামাল কিনতে সোমবার রাতে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। তবে পণ্য কিনে দেশে ফেরার আগেই কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হয়। 

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে বন্ধু ফয়সালের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল বাবুর। সেটিই ছিল বন্ধুদের সঙ্গে তার শেষ কথা। 

বুধবার বিকেলে বাবুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও বন্ধুদের কান্নায় ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি ফ্ল্যাটে স্বজনেরা আহাজারি করছিলেন। 
বাবুর আট বছর বয়সী মেয়ে এলিনা হাসান রোজা ‘বাবা, বাবা’ বলে কাঁদছিল। পাঁচ বছরের ছেলে সোয়াত ছিল চুপচাপ। স্বজনেরা দুই শিশুকে আগলে রেখেছিলেন। 

বাবুর বন্ধু ফয়সাল বলেন, কলকাতা যাওয়ার আগে বাবু তার দোকানে বসেছিলেন। পরে তাকে মূল সড়ক পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন তিনি। তখন বাবু জানতে চেয়েছিলেন, তার জন্য কিছু আনতে হবে কি না। রাতে কলকাতার হোটেল থেকে ফোন করে বাবু বলেছিলেন, তিনি খুব ক্লান্ত। সকালে আবার ফোন করবেন। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে ফয়সাল জানতে পারেন, বাবু আর নেই। 

বাবুর প্রতিবেশী ও সম্পর্কে মামা ইব্রাহিমেরও তার সঙ্গে কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল। 

ইব্রাহিম বলেন, ‘আমিও বাবুর সঙ্গে কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবু বলেছিল, মামা, এখন আপনি যাইয়েন না, পরিস্থিতি ভালো না। পরে ভিসা লাগান। পরে শুনি, বাবু কলকাতা গেছে।’ 

স্থানীয় শাহীন সুপার মার্কেটে বাবুর কসমেটিকসের দোকান। একই মার্কেটের ব্যবসায়ী ও তার বন্ধু মো. রায়হান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় বাবু তাকে ফোন করে কলকাতা যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। 

বাবু খুব ভালো মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে রায়হান বলেন, আমাদের সিনিয়র হলেও বন্ধুর মতো মিশতেন।

আরেক বন্ধু মো. ইমরান বলেন, কসমেটিকসের মালামাল আনতে বাবু প্রায়ই ভারতে যেতেন। ভিসা বন্ধ থাকায় কিছুদিন যেতে পারেননি। ভিসা চালু হওয়ার পর আবেদন করে ভিসা পান। আগের মাসেও কলকাতা থেকে মালামাল এনেছিলেন। সোমবার রাতে আবার কলকাতা যান তিনি। 

ইমরান জানান, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। বুধবার দুপুরে বাবুর বন্ধু রকির কাছে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ফোন করে ‘বাবু খান’ নামে কাউকে চেনেন কি না জানতে চাওয়া হয়। পরে ছবি পাঠানো হলে রকি তাকে শনাক্ত করেন। 

বাবু দুই সন্তান এলিনা হাসান রোজা ও সোয়াতকে রেখে গেছেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী গুলশানারা বুবলি বাড়ির বাইরে ছিলেন। স্বজনেরা তাকে স্বামীর মৃত্যুর খবর না দিয়ে অসুস্থ থাকার কথা বলে দ্রুত বাড়িতে ফেরান। 

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাবুর পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ওই ঘটনায় মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর