বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে এজাহার: ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে এজাহার: ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ। ছবি: ঢাকা মেইল

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এজাহারের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্মাকে (ইউএনও) করা হয়েছে বদলি।

মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন ও রাজশাহী বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী কমিশনার প্রীতিলতা বর্মণ স্বাক্ষরিত পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে ন্যস্ত করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। 

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

নাটোরে দুই ইউএনওর কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, ২০০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার

লালপুরে এজাহারে অভিযুক্ত ১৮ জন হলেন- গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান জুলহাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল বারী কাজল, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হযরত আলী, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহিনুর রহমান, আরবাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক  ইলিয়াস হোসেন, এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবেদ আলী, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রবি, পৌর বিএনপির মোহাম্মদ আলী আজম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান এবং পৌর যুবদলের মো. সুমন। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

বাগাতিপাড়ায় এজাহারে অভিযুক্ত সাতজন হলেন- উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সাব্বির হোসেন মুন্না। দায়েরকৃত এজাহারে অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অফিসে হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। তবে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলে মামলা করতে কোনো আপত্তি নেই। তবে ঢালাওভাবে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। দলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি মহল এটা করছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ চক্রান্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত দোষীদের বিচার হোক আমরা চাই। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে মামলায় জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তুলে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৭ আগস্ট) এ ঘটনায় লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে নিজ নিজ থানায় দুটি এজাহার করেন। এজাহারে সরকার দলীয় ২৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর