নরসিংদীর রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন আলীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে তার সমর্থকদের মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভুঁইয়ার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত ব্যক্তিরা হলেন রায়পুরা সরকারি কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন (৪২), উপজেলা যুবদল সদস্য রাসেল ভুঁইয়া (৩৭), উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম পলাশ (২৮), উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম (৪০), জাহাঙ্গীর মোল্লা (৩৫), উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন (৫৭), পাবেল মিয়া (৩২), আসাদুজ্জামান (৪৭), মনির সরকার (৪০), আসাদ মিয়া (৪০), মিঠু খন্দকার (৩২), আমান মিয়া (২৯), শাহাদাত (৩২), নোহান আহাম্মেদ (১৮) ও শাহিন (২৮)।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের সমর্থকেরা মানববন্ধন করেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গেলে তাদের সঙ্গে মানববন্ধনকারীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেলে করে চেয়ারম্যানের বাড়ির দিকে গেলে সেখানে তার সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভুঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনকে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর তার অনুসারীরা হাসিমপুর বাজারে মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ছিলেন। পরে তিনি খবর পান, তার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। রায়পুরা সদর থেকে দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ি এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। চেয়ারম্যানের বাড়ির গেট ও ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের বাড়ি অতিক্রম করার সময় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মোটরসাইকেলের বহরে হামলা করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) টিএম ফরিদুল আলম বলেন, চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর পর তার অনুসারীরা মানববন্ধনের চেষ্টা করেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মামুদপুর এলাকায় গেলে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার নরসিংদীর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান রায়পুরা ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর তার মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
প্রতিনিধি/এসএস




