বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

টাঙ্গাইলে দুই নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

শেয়ার করুন:

টাঙ্গাইলে দুই নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে দুই নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানতে চাওয়া এবং বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক কোরবান আলী তালুকদারকে লাঞ্ছিত ও অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে ফরিদা নামে এক পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কোরবান আলী তালুকদার ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকার ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি। 

জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলা গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া ও গোবিন্দাসীর এলাকার দুইজন নারী ডেলিভারি করাতে যায়। এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠে গোবিন্দাসী মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে। এর কয়েক মাস আগেও ডেলিভারি করানোর সময় আরেক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। 

এ ছাড়াও সরকারি একটি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র ডেলিভারি করানোর নামে চিকিৎসা বাণিজ্যে ও বিভিন্ন ঔষধসহ স্বাস্থ্যসামগ্রী বিক্রির অভিযোগও রয়েছে এ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে। 

স্থানীয়দের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শিকার কাছে বক্তব্য চাইতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করায় কোরবান হেনস্তা করা হয়। 

এর পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বাড়িতে গিয়ে তার হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন ওই স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা। এতে ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। 

নবজাতকের স্বজনরা জানায়, পরিদর্শিকা ফরিদা তাদের বাড়িতে এসে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুল স্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে কাউকে কোনো কিছু জানাতে নিষেধ করছেন। তারা আরও জানায়, ডেলিভারি করানোর সময় ফরিদা তাদের থেকে কিছু টাকা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক কোরবান আলী তালুকদার বলেন, সরকারি একটি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে ডেলিভারি করানোর নামে সে চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ জানতে চেয়ে ভিডিও ধারণ করায় তিনি আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেন এবং বাড়িতে গিয়ে আমার হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন তিনি। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা ফরিদা বলেন, দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তার কোনো হাত নেই। গর্ভে থাকা অবস্থায় দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলেই ক্ষুব্ধ হয়ে ফোন কল কেটে দেন।

এ ঘটনায় সাব-এসিস্ট্যান্ট মেডিকেল অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, হুমকির বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাহমিনা তাবাসতুম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন। কিন্তু অফিসিয়ালিভাবে তাকে কিছু জানানো হয়নি। 

প্রতিনিধি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর