নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মহানগরেও চালু হয়েছে বিআরটিসির পিংক বাস। এই বাসের শুধু যাত্রীরা নয়, চালক থেকে হেলপার সবাই নারী।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় বেলুন উড়িয়ে বাস সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৪ চান্দগাঁও আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ড. মো. কমিশনার জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছেন। এ বাসের চালক ও হেলপার সবাই নারী। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে দুটি বাস দিয়ে এ সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়েছে। এর একটি দ্বিতল বাস। এতে আসন রয়েছে ৭৫টি। অন্য বাসটিতে আসন রয়েছে ৪৫টি। দ্বিতল বাসে একজন নারী চালক ও দুজন নারী সহকারী থাকবেন। অন্য বাসটিতে থাকবেন একজন নারী চালক ও একজন নারী সহকারী।
বাসগুলো প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার রুটে চলাচল করবে। কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। আর কালুরঘাট বা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ভাড়া ৬৮ টাকা। যাত্রীদের চাহিদা ও কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এ সার্ভিসের পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
শুধু নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তাদের মতে, সাধারণ গণপরিবহনে চলাচলের সময় নারীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। আলাদা বাস চালু হওয়ায় অনাকাঙ্খিত সমস্যা থেকে স্বস্তি মিলবে।
নারী যাত্রী শারমীন বলেন, কম্বাইন্ড বাসে অনেক সময় ইভটিজিং ও হয়রানির শিকার হতে হয়। আবার মেয়ে কম থাকলে বাসে উঠতেও দেওয়া হয় না। এখানে চালক, সহকারী ও যাত্রী সবাই নারী। তাই আমরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি।
কামরুন নাহার নামে আরেক যাত্রী বলেন, অনেক দিন ধরেই আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু হোক। এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নারীদের জন্য আরও বাস চালু করা উচিত।
বাসটির নারী চালক খায়রুন নেছা বলেন, নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারী যাত্রী নিয়ে বাসটি পরিচালনা করতে পেরে আমি গর্বিত। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।
প্রতিনিধি/এআরএম




