মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারীর বিস্তারে মারাত্মক হুমকিতে জলজ জীববৈচিত্র্য

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী) 
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৩ এএম

শেয়ার করুন:

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারীর বিস্তারে হুমকিতে জলজ জীববৈচিত্র্য
মূল ছবিতে খালে পাতা রয়েছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল

খাল-বিল, নদ-নদী ও জলাশয়—এমন কোনো স্থান বাদ নেই, যেখানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল দেখা না যায়। সর্বত্রই উদ্বেগজনকভাবে বিস্তার লাভ করেছে এই ক্ষতিকর জাল। এর ফলে বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে জলজ জীববৈচিত্র্য।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মাঝেমধ্যে চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও অভিযানের পরপরই অসাধু চক্র আবারও নিষিদ্ধ এই জাল কিনে খাল-বিলে পাতা শুরু করে। তাই শুধু ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান নয়, চায়না দুয়ারী জাল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মূল উৎস বা কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর এই নিষিদ্ধ জালের বিস্তার দেশের অন্যান্য এলাকার মতো নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতেও ব্যাপক আকার বিস্তার লাভ করেছে। হাতিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেই এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে।

2

সম্প্রতি হাতিয়া পৌরসভা ও বুড়িরচর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হাঁটুপানি থেকে শুরু করে গভীর জলেও দুষ্টচক্র চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে ছোট-বড় সব ধরনের মাছের পাশাপাশি ডিম, রেণু ও পোনাও আটকা পড়ছে। একইসঙ্গে শামুক, ব্যাঙ, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও এর শিকার হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর ও নিয়মিত অভিযান না থাকায় দিন দিন এই জালের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

হাতিয়া পৌরসভার শূন্যেরচর গ্রামের আবুল হাসেম বলেন, ‘এখানকার এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে চায়না দুয়ারী জাল বসানো হয় না। বিত্তশালী থেকে শুরু করে নারীরাও বিলে এই জাল বসিয়ে মাছ ধরছেন।’

কামাল নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘একসময় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জলাশয়ে প্রচুর শোল, বোয়াল, কৈ, শিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারীসহ নানা ধরনের জালের কারণে মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে যাচ্ছে।’

নিঝুম দ্বীপ এলাকার আশরাফ মাঝি বলেন, ‘সরকারিভাবে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল উৎপাদনের কারখানা বন্ধ করা না হলে শুধু মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কোনো লাভ হবে না। উৎপাদনস্থল বন্ধ করতে হবে।’

3

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হাতিয়ার খাল-নালা ও জলাশয়ে মোট মাছ উৎপাদন ও আহরণের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে গত অর্থবছর এবং চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার জরিপ প্রতিবেদন এখনো প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফয়জুর রহমান জানান, চায়না দুয়ারী জাল উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়েছে। ওছখালী, আফাজিয়া বাজার ও তমরুদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ এই জালের সন্ধান যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই অ্যাকশন নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এএইচ  

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর