মাছের পোনা উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬-এর স্বর্ণপদক পেয়েছে নোয়াখালীর আলা উদ্দিন ফিসারিজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আলা উদ্দিনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
আলা উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। জাতীয় মৎস্য পদক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি মো. আবদুর রহিম অভিযোগ করেন, আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন, মামলা-হামলা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলা উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আলা উদ্দিন ফিসারিজকে এ পদক দেওয়া হয়।

নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশীদ বলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ও সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক এলাকায় উন্নত ও গুণগত মানের কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন, সরবরাহ এবং মাছ চাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় আলা উদ্দিন ফিসারিজকে এ পদক দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্তে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করেছে।’
এদিকে আলা উদ্দিনের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন অশ্বদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম হোসেন বাবলু।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২১টি পুকুরে মোট ১৭ দশমিক ৬ হেক্টর জলায়তনে গুণগত মানের রেণু ব্যবহার করে প্রায় ১৯৮ লাখ কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি খামারটিতে ৩২ জনের সার্বক্ষণিক এবং ৬৩ জনের খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান হয়েছে।
উন্নত মৎস্যচাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে গুণগত মানের পোনা উৎপাদন, সরবরাহ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আলা উদ্দিন ফিসারিজকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬-এর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকার ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




