শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

পাথরঘাটায় নিষিদ্ধ মাছ জব্দের ঘটনায় কোস্ট গার্ডকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

পাথরঘাটায় নিষিদ্ধ মাছ জব্দের ঘটনায় কোস্ট গার্ডকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ

বরগুনার পাথরঘাটায় বিপুল পরিমাণ শাপলাপাতা ও পিটার মাছ জব্দের ঘটনায় কোস্ট গার্ডের অভিযান ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। জব্দ করা মাছের বিষয়ে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা, জব্দ তালিকা প্রস্তুত না করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেফতারের উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগে পাথরঘাটা কোস্ট গার্ড স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটসংলগ্ন একটি মাছের আড়তে অভিযান চালিয়ে কোস্ট গার্ড প্রায় ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪৪০ কেজি শাপলাপাতা ও ২৫০ কেজি পিটার মাছ জব্দ করার কথা জানায়। পরে বন বিভাগের উপস্থিতিতে জব্দ করা মাছ মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়ায় বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এরপর জব্দ করা মাছ হস্তান্তর, জব্দ তালিকা তৈরি, ধ্বংস এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, মৎস্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী জব্দ করা সামগ্রী সংরক্ষণ, হস্তান্তর ও দ্রুত পচনশীল সামগ্রী ধ্বংসের নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী জব্দ তালিকা প্রস্তুত এবং আদালতের প্রয়োজনীয় আদেশ নেওয়ারও বিধান রয়েছে।

আদালতে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কোস্ট গার্ড স্থানীয় থানায় নিয়মিত মামলা করতে ব্যর্থ হয়েছে, জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেনি, জব্দ করা মাছ যথাযথ নিয়মে ধ্বংস করেনি এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার বা আদালতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নেয়নি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্টেশন কমান্ডারকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে বিষয়টি অবগতির জন্য বরগুনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আদেশের অনুলিপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর